Law & Government

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট
Sponsored

গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে। এতে গণভোট-২০২৬–এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আজ মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ আবেদনকারী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাতিল চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান আবেদনকারী আইনজীবী। ফেব্রুয়ারির গেজেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতের দিকগুলো রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ বা কোনো সাংবিধানিক সভা (গণপরিষদ) নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক ট্রাস্টি, যা কঠোরভাবে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে বাধ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আনুষ্ঠানিক নয়, বরং এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো; বিস্তৃত গণভোট আইন অথবা বিধিমালা; স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সমান অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অবহিত করে সম্মতি নিশ্চিত করা ছাড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় বাদ দেওয়া এবং কার্যক্রম (গণভোট পরিচালনা) জনগণের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। রিটের যুক্তিতে বলা হয়, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা অন্তর্বর্তী সরকারসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গের জন্য বাধ্যতামূলক। শপথগ্রহণ বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব আরোপ করে যে ব্যক্তি সংবিধানের মধ্যে থেকেই কার্যপরিচালনা করবেন। সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া ক্ষমতার যেকোনো চর্চা নিয়মবিরুদ্ধ ও বাতিলযোগ্য। প্রয়োজন, সুবিধা বা রাজনৈতিক উত্তরণের যুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত গেজেট (গণভোটের ফলাফল) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট-২০২৬–এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

এছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো গণভোট প্রয়োগের আগে একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনসচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গণভোট হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। অর্থাৎ, ‘না’–এর চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে ‘হ্যাঁ’।

Sponsored
Sponsored

Share this article

Related Articles